কালো কোট, সাদা ব্যান্ড। কলকাতা হাইকোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সওয়াল করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ক’দিন আগেও তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
এই দৃশ্যটি দেখেই নড়েচড়ে বসল ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। প্রশ্ন একটাই — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আদৌ বৈধভাবে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারেন?
কী ঘটেছিল হাইকোর্টে
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় আইনজীবীর পোশাকে আদালতে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পরই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয় বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া।
বার কাউন্সিলের চিঠিতে কী আছে
বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে মমতার এনরোলমেন্ট, প্র্যাকটিস স্ট্যাটাস এবং পেশাগত আচরণবিধি মানা হয়েছে কি না — এই তিনটি বিষয় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় একটি সাংবিধানিক পদে থাকার কারণে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধন ও প্র্যাকটিস চালুর প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নথিপত্র দেখে নিশ্চিত করতে হবে।
১৬ মের মধ্যে যেসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে
আগামী ১৬ মের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে একাধিক বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
- প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত কি না।
- দ্বিতীয়ত, তার এনরোলমেন্ট নম্বর ও তারিখ কী।
- তৃতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি প্র্যাকটিস স্থগিত রেখেছিলেন কি না।
- চতুর্থত, পুনরায় প্র্যাকটিস শুরু করার জন্য কোনো আবেদন করেছিলেন কি না।
- পঞ্চমত, বর্তমানে তার প্র্যাকটিস সার্টিফিকেট বৈধ কি না।
এই সব প্রশ্নের উত্তরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব নথির সার্টিফায়েড কপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নথি পরিবর্তন না করার সতর্কতা
চিঠিতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে কোনো নথি পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র অপরিবর্তিত রাখতে হবে।
ভারতের আইন অঙ্গনে আলোচনা
এই ঘটনার পর ভারতের আইন মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার পর হঠাৎ করে আইনজীবী হিসেবে আদালতে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াটি নিয়মসম্মত ছিল কি না।
তবে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ পায়নি।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া






