ইরানের সঙ্গে প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে। মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আর এসবের জেরে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনঅসন্তোষ বাড়ছে দিন দিন। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা।
গ্যালনে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট, পরিকল্পনায় কর ছাড়
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়েছে। সাতটি অঙ্গরাজ্যে দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলারের সীমা পেরিয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশন।
এ পরিস্থিতিতে ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে হোয়াইট হাউসে। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে প্রতি গ্যালনে ১৮ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমতে পারে। তবে এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সমর্থন দিলেও দলীয় নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, জনগণকে দৃশ্যমান স্বস্তি দিতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে প্রশাসনের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ৩.৮ শতাংশ, ভোক্তা আস্থা রেকর্ড নিম্নে
এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুদ্ধ শুরুর পর ভোক্তা আস্থাও রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক বলছেন উচ্চ জ্বালানি মূল্যে তাদের পারিবারিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে।
হোয়াইট হাউসের এক রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসের মূল্যই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি।
রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশঙ্কা
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের নেতারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তাদের।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং শিপিং বিধিনিষেধ তুলে নেয়। সোমবার জ্বালানি বিভাগ জাতীয় মজুদ থেকে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ হিসেবে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ট্রাম্প জ্বালানির দাম বাড়াকে ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে এই মূল্য দেওয়া প্রয়োজন।
আরেক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সার্থক হয়েছে। বিপরীতে ৫৩ শতাংশ মনে করেন এই যুদ্ধ মূল্যবান নয়।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ অ্যামি কচ বলেন, মানুষ স্বল্পমেয়াদে কিছু অর্থনৈতিক চাপ মেনে নিতে প্রস্তুত থাকলেও হোয়াইট হাউসের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।






