পরপর দুই ম্যাচে শূন্যে ফিরেছিলেন। সমালোচনা ছিল। প্রশ্ন ছিল। কিন্তু বিরাট কোহলি বিরাটই থাকলেন।
বুধবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলে সব জবাব দিয়ে দিলেন তিনি। ম্যাচের শেষেই দিলেন এমন এক মন্তব্য, যেটা নিয়ে ভক্তরা অনেকদিন কথা বলবেন।
‘একদিন তো সব শেষ হবেই।’
শতকের রাতে আবেগময় কোহলি
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে কোহলি বলেন, ‘ক্রিকেট এমন কিছু, যেটাকে আমি সত্যিই ভালোবাসি। ব্যাটিং হোক বা ফিল্ডিং, মাঠে আমি আমার হৃদয় আর আত্মা উজাড় করে দিই। কারণ একদিন তো সব শেষ হবেই।’
৩৭ বছর বয়সী এই তারকার কণ্ঠে এই বাক্যটা এল ঠিক তখন, যখন তিনি একটি রেকর্ড-ভাঙা শতক করলেন মাত্র। সম্প্রতি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। আইপিএলই এখন তাঁর একমাত্র ক্রিকেটের মঞ্চ।
বেঙ্গালুরুর জয়, কোহলির শতকে ভর করে
কলকাতার দেওয়া ১৯৩ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল বাকি রেখেই পেরিয়ে গেছে বেঙ্গালুরু। পুরো কৃতিত্বটা কোহলির। ১১টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি ছিল নিয়ন্ত্রিত, তীক্ষ্ণ এবং পরিপক্ক।
৩২ বলে পঞ্চাশ পেরোনোর পর তিন অঙ্কে পৌঁছাতেও সময় নেননি বেশি। আইপিএলে এটি তাঁর নবম শতক। চলতি মৌসুমে প্রথম।
একটু মজার ঘটনাও হয়েছিল। পরপর দুই ম্যাচে শূন্যে ফেরার পর এই ম্যাচে প্রথম রানটা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোহলি উদযাপন করলেন। হালকাভাবেই, তবে বার্তাটা পরিষ্কার ছিল।
রেকর্ডের পর রেকর্ড
এই ইনিংসে কোহলি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম ১৪ হাজার রান পূর্ণ করার রেকর্ড গড়েছেন। ৪০৯ ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ক্রিস গেইলের ৪২৩ ইনিংসের পুরনো রেকর্ড।
এখানেই শেষ নয়। সফল রান তাড়ায় আইপিএলে এটি তাঁর তৃতীয় শতক, যা জস বাটলারের রেকর্ডের সমান।
চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে ৪৮৪ রান নিয়ে কোহলি এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তিন নম্বরে। গড় ৫৩.৭৭। তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি ও একটি শতক।
মাঠে প্রতিটি দিন উপভোগ করতে চান
ম্যাচের পর কোহলির কথাগুলো শুনলে বোঝা যায়, মাঠে থাকার আনন্দটা তাঁর কাছে এখনও একটুও কমেনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে থাকা প্রতিটি দিনকে উপভোগ করতে চাই। চাপের মুহূর্ত আমি ভালোবাসি। যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়, তখন নিজেকেই চ্যালেঞ্জ দিই — চলো, এবার করে দেখাও। ব্যাটের মাঝখানে বল লাগার আনন্দটা এখনও আগের মতোই আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনও এই পর্যায়ে খেলতে পারছি, বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছি, এটাই বিশাল সম্মানের। সারাজীবন আমি এটাই করেছি।’
বিদায় নিয়েছেন, তবু জনপ্রিয়তা কমেনি
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেই টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় দিয়েছিলেন কোহলি। এরপর টেস্ট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে ‘কিং কোহলি’র জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। ভারতের গ্যালারিতে এখনও সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তাঁর ১৮ নম্বর জার্সি।
মাঠে থেকে যাওয়ার ইচ্ছাটা স্পষ্ট। আর যতদিন থাকবেন, ততদিন যে এভাবেই খেলবেন — সেটাও বোধহয় বুধবারের রাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।




