তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে বিজয়ের টিভিকে সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ায় এআইএডিএমকের ২৪ বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দলটি। হুইপ অমান্যের অভিযোগে তাদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে এবং কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দলীয় পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবারের আস্থা ভোটে বিজয়ের পক্ষে ১৪৪ জন বিধায়ক ভোট দেন। বিপক্ষে পড়ে ২২ ভোট। পাঁচজন বিরত থাকেন। এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকের ৫৯ বিধায়ক ওয়াকআউট করেন। টিভিকের মোট ১০৫ বিধায়কের মধ্যে একজন স্পিকার এবং আরেকজন আদালতের নির্দেশে বিরত থাকায় ভোটে অংশ নেন ১০৩ জন।
এআইএডিএমকের বক্তব্য
চেন্নাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে এআইএডিএমকে নেতারা জানান, হুইপ অমান্যকারী ২৪ বিধায়কের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। দলত্যাগবিরোধী আইনে তারা পদ হারালে ২৪টি আসনে উপনির্বাচন হতে পারে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানিকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে দলটি জানায়।
বিদ্রোহীদের পাল্টা অবস্থান
বিদ্রোহী গোষ্ঠী অবশ্য হুইপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, নতুন বিধায়কদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হুইপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই এই হুইপ মানার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
সি ভি শানমুগাম বলেন, পালানিস্বামীর হুইপ অমান্যের দাবি আইনগতভাবে টিকবে না। তিনি জানান, দলের সাধারণ সম্পাদক সরাসরি হুইপ নিয়োগ করতে পারেন না। নিয়ম অনুযায়ী নতুন বিধায়কদের বৈঠক ডেকে আইনসভার নেতা, উপনেতা ও হুইপ নির্বাচন করতে হয়। কিন্তু পালানিস্বামী নিজেই আরজি কৃষ্ণমূর্তিকে হুইপ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নতুন স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি ওই হুইপ।
সুপ্রিম কোর্টের নজির
মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বিভক্তির মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, দলীয় বিভক্তির ক্ষেত্রে স্পিকারের দায়িত্ব হলো কে, কখন এবং কিভাবে হুইপ নিয়োগ করেছেন তা যাচাই করা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা। ওই মামলায় রাহুল নারওয়েকার শুধু একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে হুইপ ঘোষণা করলে সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ বলে।
তামিলনাড়ুতেও বর্তমানে উভয় পক্ষের বিধায়করা স্পিকারের কাছে নিজেদের গোষ্ঠীকে আইনসভা দলের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করেছেন। নতুন স্পিকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।






