ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮-এ।
বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, চিকিৎসা অনুষদের ডিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা), ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বললেন ভিন্ন কথা
তবে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাননি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সংখ্যা নয়, মেডিকেল শিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ সরাসরি বললেন, ‘এটা কোনো মতেই কাঙিক্ষত না।’
তিনি বলেন, দেশে এখন শতাধিক মেডিকেল কলেজ আছে। কিন্তু সেগুলোতে চিকিৎসা বিজ্ঞান শেখানোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। ভালো মানের শিক্ষক নেই। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি ও রোগী নেই। এই বাস্তবতায় নতুন কলেজ খুললে মেডিকেল শিক্ষার মান আরো নিচে নামবে। দেশের কোনো উপকার হবে না।
তাঁর পরামর্শ, ‘নতুন মেডিকেল কলেজ না করে যেগুলো আছে সেগুলো মানসম্মত করার চেষ্টা করা উচিত। প্রতিষ্ঠান মানসম্মত হলে ভালো চিকিৎসক তৈরি হয়। এলাকার মানুষ ভালো সেবা পায়, সর্বোপরি দেশ উপকৃত হয়। সরকার যদি বাকি জেলাগুলোতে নতুন করে মেডিকেল কলেজ দেয়, সেটা আমাদের ভালোর চেয়ে মন্দ হবে।’
বিশিষ্টজনেরা আরো মনে করিয়ে দিলেন, গত কয়েক দশকে দেশে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় পর্যায়ে অনেক মেডিকেল কলেজ হয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশই মুনাফাভিত্তিক। মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা নয়, টাকা রোজগার।












